জাতিসংঘে ড. ইউনূসের ‘তিন-শূন্য' ধারণা

 জাতিসংঘে ড. ইউনূসের ‘তিন-শূন্য' ধারণা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। ২৭ সেপ্টেম্বরছবি:-

প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমাদের বিশেষ করে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তির প্রয়োজন, বিশেষত কৃষি, পানি, এবং জনস্বাস্থ্য খাতে। যেখানে ছোট ছোট উদ্ভাবন ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে পারে। জলবায়ু সংকটের মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশ্ব এখন কার্বনমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগী, এবং এই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে, পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে পারস্পরিক সমৃদ্ধির অঙ্গীকারে আমরা পিছিয়ে পড়বো।


নোবেলজয়ী ড. ইউনূস বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ব একসঙ্গে ‘তিন শূন্য’ ধারণা গ্রহণ করতে পারে, যেখানে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ অর্জন সম্ভব। এতে তরুণরা চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং সামাজিক সুফল, অর্থনৈতিক লাভ ও পরিবেশের দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে তারা ভোগবাদী জীবনধারা থেকে সরে এসে সামাজিক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ এবং অংশীদারদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, এবং ঐক্যের প্রয়োজন। জাতিসংঘ ব্যবস্থা, জাতীয় ও আঞ্চলিক সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও দাতব্য সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোয় সামাজিক ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করলে নিচের স্তরের মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং জলবায়ুর ধ্বংসাত্মক প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ড. ইউনূস।