২০০৫ সালে ফেসবুক চালাতে হলে জানতে হবে (না হয় ফেসবুক আইডি হারাতে হবে)

 যেসব কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার ফেসবুক আইডি বা পেজ




ফেসবুক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ব্যক্তিগত, পেশাগত এবং ব্যবসায়িক কাজের জন্য এটি একটি অপরিহার্য প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। তবে, অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন যে তাদের ফেসবুক আইডি বা পেজ হঠাৎ ডিজেবল হয়ে গেছে। কেন এমন ঘটে এবং কীভাবে এ সমস্যা এড়ানো যায়, তা নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন। 


একটি বাস্তব ঘটনা: ফুড আপ্পি পেজের হঠাৎ বন্ধ হওয়া


ঢাকার তরুণী ফাবিহা হাসান মনিষা তার “ফুড আপ্পি” নামক ফেসবুক পেজটি গত তিন বছর ধরে পরিচালনা করছিলেন। এই পেজে তিনি বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং তার ফলোয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ। 

কিন্তু গত ২৪ এপ্রিল পেজটি হঠাৎ ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যায়। প্রচুর চেষ্টা করেও তিনি এটি উদ্ধার করতে পারেননি। পরে তিনি নতুন একটি পেজ খুলে জানান, তার পেজে ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পেজটি ডিজেবল করে দেয়। 

এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, ফেসবুকের নীতিমালা অমান্য করা ছাড়াও ভুয়া রিপোর্টের কারণেও পেজ বা আইডি ডিজেবল হতে পারে। 

কেন ফেসবুক পেজ বা আইডি ডিজেবল হয়?  


ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে। ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নামে একটি নির্দেশিকা রয়েছে। এটি প্রধানত ছয়টি অংশে ভাগ করা: 

1. সহিংসতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ: সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ, বা সহিংসতাকে প্রমোট করে এমন কনটেন্ট। 
2. নিরাপত্তা:আপত্তিকর বা হুমকিমূলক বিষয়বস্তু। 
3. আপত্তিকর কনটেন্ট: হিংসাত্মক বক্তব্য, জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ। 
4. ভুয়া তথ্য:প্রতারণামূলক পোস্ট বা ভুল তথ্য প্রচার। 
5. মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন: কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন। 
6. অবৈধ কার্যকলাপ: নিয়মবহির্ভূত রিপোর্টের ব্যবহার। 

ভুয়া রিপোর্ট এবং রোবটিক সিস্টেমের ভূমিকা

ফেসবুক এখন কনটেন্ট রিভিউয়ের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতিতে কোনো কনটেন্টের বিরুদ্ধে অনেক রিপোর্ট জমা পড়লে, তা যাচাই ছাড়াই ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিস্টেমে ফেসবুকের দুর্বলতা রয়েছে। ভুয়া রিপোর্টের ফলে অনেক বৈধ পেজ বা আইডি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। 

ডিজেবল হলে কী করবেন?


আপনার ফেসবুক পেজ বা আইডি ডিজেবল হলে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন: 

1. ফেসবুকের কাছে আপিল করুন:
   ডিজেবল হলে ফেসবুকের [Help Center] ব্যবহার করে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করুন। 

2. সঠিক ডকুমেন্ট জমা দিন:
   আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মালিকানা প্রমাণ করুন। 

3. ইমেইল ও ফোন নম্বর আপডেট রাখুন:
   পেজ বা আইডির সাথে যুক্ত ইমেইল ও ফোন নম্বর যেন সবসময় অ্যাক্সেসযোগ্য থাকে। 

4. কনটেন্ট সুরক্ষায় রাইটস ম্যানেজার ব্যবহার করুন:
   ভিডিও বা কনটেন্ট কপিরাইট সুরক্ষার জন্য ফেসবুকের রাইটস ম্যানেজার টুলটি ব্যবহার করুন। 

ফেসবুক পেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায়

আপনার ফেসবুক পেজ বা আইডি নিরাপদ রাখতে নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করুন: 

দুটি স্তরের নিরাপত্তা (Two-Factor Authentication):অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করতে এই সিস্টেমটি চালু করুন। 

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করুন: এমন কোনো কনটেন্ট পোস্ট করবেন না যা ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে। 

নিয়মিত পেজ আপডেট করুন:পেজের তথ্য ও কন্টাক্ট ডিটেইলস সবসময় আপডেট রাখুন। 

ভুয়া রিপোর্ট প্রতিরোধে সতর্ক থাকুন:প্রতিযোগীরা আপনার পেজের ক্ষতি করতে পারে, তাই প্রতিটি কনটেন্ট পোস্ট করার আগে সেটি যাচাই করে নিন। 

ভেরিফাইড পেজ কি নিরাপদ?


ভেরিফাইড পেজ কিছুটা বেশি সুরক্ষিত হলেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভেরিফাইড পেজও কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গের জন্য ডিজেবল হয়ে যায়। 

তবে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি ফেসবুকের কাছে আপনাকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তাই পেজের ভেরিফিকেশন করার চেষ্টা করুন। 

বিশেষজ্ঞদের মতামত


বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, “ফেসবুকের নীতিমালা কঠোর হলেও তা প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন। ব্যবহারকারীদের এসব নীতিমালা মেনে চলা উচিত।” 

তিনি আরও বলেন, “ফেসবুকের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে নিজের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাও হতে পারে একটি বিকল্প ব্যবস্থা।” 

আপনার ফেসবুক আইডি বা পেজ ডিজেবল হওয়া একটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সচেতন থাকা এবং ফেসবুকের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ভুয়া রিপোর্ট বা কপিরাইট লঙ্ঘনের মতো সমস্যা এড়িয়ে চলুন এবং আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।  


দোহারে অফিস সহকারী নজরুলের দুর্নীতি ও সম্পদের পাহাড় ঘিরে প্রশ্ন

 "দোহার উপজেলা অফিস সহকারী নজরুলের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার"

দোহার থানা প্রতিনিধি: ঈমানুল কায়েস 
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪


অফিস সহকারী নজরুল

ঢাকার দোহার উপজেলার অফিস সহকারী নজরুল কবির রিপন প্রায় এক দশক ধরে দোহারে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন এই অঞ্চলে কাজ করার সুবাদে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মৈনটঘাটে প্রতিদিনের খাস কালেকশনের টাকার হিসাবের গড়মিল, নাম-বেনামে সম্পদ অর্জন ও প্রতারণা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৈনটঘাটে কোনো ইজারা না থাকায় খাস কালেকশনের টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন নজরুল কবির। অভিযোগ অনুসারে, তিনি সরকারি এই অর্থের সঠিক হিসাব রাখছেন না এবং তা থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।


ঘাটের স্পিডবোট ও লঞ্চের দেখাশোনা করেন আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। আক্তার হোসেন জানান, প্রতিদিনের খাস কালেকশনের টাকার হিসাব নজরুল কবিরের কাছে স্থানীয় আজিজ মাষ্টারের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে আক্তার আরও বলেন যে, গত মাসের জমাকৃত টাকার খাতা আজিজ মাষ্টারের কাছে রাখা আছে। তবে আজিজ মাষ্টারকে টেলিফোনে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাট থেকে প্রতিদিন যে অর্থ আদায় হচ্ছে তার বড় অংশই নজরুল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে যাচ্ছে এবং এ কারণে সরকার প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।


নজরুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে সরকারি জমি দখল এবং তার নামে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করা। তিন বছর আগে নজরুল নিজের আত্মীয় পরিচয়ে ঢাকা জেলার বাইরের দুই ব্যক্তির নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করেন এবং এই নথির ভিত্তিতে সরকারি জমি বন্দোবস্ত নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি দখল নিশ্চিত করতে তিনি রাতের অন্ধকারে গাইডওয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালান। তবে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তিনি এই কাজে সফল হননি।


এই জমি দখল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নজরুল আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেন। দোহারের ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিজেকে নিবন্ধিত করার জন্য মাহমুদপুর ইউনিয়নের মো. জয়নাল নামে এক ব্যক্তির জমি লিখে নেন। দীর্ঘদিন পার হলেও নজরুল সেই জমি ফেরত দেননি এবং এখনো সেটি নিজ দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নজরুলের সীমিত বেতনের চাকরি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ময়মনসিংহে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া গত ৬ আগস্ট দোহারের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি নিশান ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনেন। এই গাড়িটি উপজেলায় পার্কিং করা হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে।


নজরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হলে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তথ্য সংগ্রহের জন্য চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও নজরুল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করলেও নজরুল সরাসরি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মৈনটঘাটের খাস কালেকশন এবং নজরুলের কর্মকাণ্ড নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরা বাইরে রেখে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন জানান, মৈনটঘাটের খাস কালেকশনের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন যে, কোনো ব্যক্তির অবৈধ আয় বা সম্পদের জন্য প্রশাসন দায় নেবে না এবং এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নজরুলের বিরুদ্ধে ওঠা এইসব অভিযোগ দোহারের সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নজরুলের এই কর্মকাণ্ড তাঁর পদবি ও দায়িত্বের প্রতি এক ধরনের অবমাননা। এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সাধারণ জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। স্থানীয়দের দাবি, নজরুলের মতো কর্মকর্তাদের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।


এ অবস্থায় নজরুলের মতো কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর সরকার নজরদারি বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের নিশ্চয়তা তৈরি করা সম্ভব হবে।

দোহারে নাজমুল হত্যার আসামি গ্রেফতার

 দোহার থানার চঞ্চল্যকর নাজমুল হত্যার আসামি গ্রেফতার 

দোহার থানা প্রতিনিধি: ঈমানুল কায়েস 
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪


আজ ১২ নভেম্বর দুপুর ২টায় আলোচিত নাজমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি রনি ও তার ছেলে দোহার থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন দোহার থানার বাসিন্দারা।

ঢাকার দোহার উপজেলায় ৩০ বছর বয়সী নাজমুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত নাজমুল ছিলেন ইকরাশি গ্রামের আলী ব্যাপারীর ছেলে। এই ঘটনায় মিলন নামে আরও একজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ১৮ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাঁশতলা বাজারে নাজমুলকে খুন করা হয়। রনি ও তার সহযোগীরা একটি মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করলে নাজমুল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের বেসরকারি স্কুল-কলেজের ফি কাঠামো: নতুন নীতিমালা

 ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজের টিউশন ফি ছাড়াও অন্যান্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালার সুবিধা ও প্রভাব জানুন!


শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা


২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি স্কুল ও কলেজে শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে স্কুল-কলেজগুলোতে টিউশন ফি ছাড়াও অন্যান্য ফি নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা। এই নীতিমালার সুবিধা এবং প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা

বাংলাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজের ফি বৃদ্ধির সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল। ২০২৪ সালে সরকার নতুন একটি নীতিমালা চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং আর্থিক সমতা বজায় রাখতে এই নীতিমালার মাধ্যমে টিউশন ফি ছাড়াও অন্যান্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন থেকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ফি নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে। এতে করে কোন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় খরচ আরোপ করতে পারবে না। নতুন নীতিমালার লক্ষ্য হল শিক্ষাব্যয়কে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক করা।


২. নতুন নীতিমালার সুবিধা

নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু সুবিধা পাবে:

(ক) শিক্ষাব্যয় কমানো

নতুন নীতিমালা শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। বিভিন্ন ফি নির্ধারণের ফলে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।


(খ) স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

এই নীতিমালার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। অভিভাবকরা জানতে পারবেন কোন ফি কত এবং কেন নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তারা আরও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

(গ) উচ্চমানের শিক্ষা

টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি নির্ধারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করতে উৎসাহিত করা হবে। এর ফলে বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার মান বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা লাভ করবে।


৩. বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক প্রভাব

নতুন নীতিমালার কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ না করার কারণে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের খরচ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে, শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক চাপ কমানো এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে।


৪. শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রভাব

নতুন নীতিমালার প্রভাব শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের উপরই নয়, বরং অভিভাবকদের উপরও পড়বে। যেহেতু টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ সীমিত করা হয়েছে, অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমবে। এটি তাদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সমর্থন সৃষ্টির সুযোগ দেবে।

(ক) আর্থিক সমতা

নতুন নীতিমালা সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে যাদের আর্থিক সক্ষমতা কম, তারা এখন সহজেই উচ্চমানের শিক্ষায় প্রবেশ করতে পারবে।

(খ) সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমতা

বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোকে এখন সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমানে দাঁড়িয়ে শিক্ষার মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

৫. সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

যদিও এই নীতিমালা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে আসবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো নতুন নিয়ম মেনে চলতে সক্ষম হবে না এবং তার ফলে কিছু সময়ের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তাছাড়া, কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নেয়া বন্ধ করলে তাদের আয়ের প্রবাহ কমে যেতে পারে, যার ফলে তারা শিক্ষার মান বজায় রাখতে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজের টিউশন ফি ছাড়াও অন্যান্য ফি নির্ধারণের নীতিমালা শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। তবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষাব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর পন্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।

হামাসের আহ্বান: বাইডেনের ভুল থেকে ট্রাম্পকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ

_2024 সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, হামাস, গাজা যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি, বাইডেনের ভুল_


ট্রাম্পের ভবিষ্যত পদক্ষেপ এবং হামাসের প্রত্যাশা



যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। গভীর রাতে ট্রাম্প তার বিজয়ের ঘোষণা করেছেন, যা মার্কিন রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা চলছে এবং হামাস, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন, এই বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হামাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

হামাসের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের শান্তি প্রতিশ্রুতি এবং বাইডেনের ভুল


৭ নভেম্বর, ২০২৪, বুধবার, আল জাজিরা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বিজয় সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। হামাসের শীর্ষ নেতা, সামি আবু জুহরি, ট্রাম্পের অতীতের এক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেছেন, “ট্রাম্প অতীতে জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজা যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হবেন। এখন সময় এসেছে, তার এই বক্তব্যকে বাস্তবে পরীক্ষা করার।”

আবু জুহরি আরও বলেন, “আমরা ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছি যে, তিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিন। ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তবে তাকে বাস্তবতা মেনে চলতে হবে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

 হামাসের রাজনৈতিক অবস্থান: জায়নবাদী সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা


হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো সদস্য বাসেম নাইম মার্কিন সরকারের জায়নবাদী সমর্থন সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জায়নবাদী সত্তার প্রতি অন্ধ সমর্থনের অবসান হওয়া উচিত। এই সমর্থন আমাদের জনগণের ভবিষ্যৎ এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।”

হামাসের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা বিশেষ করে ট্রাম্পকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছে।

ট্রাম্পের শান্তির প্রতিশ্রুতি: মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা


২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে “বাস্তব এবং স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি বলেন, “আমরা এটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করব যাতে প্রতি পাঁচ বা দশ বছর পরপর শান্তির বাধাগ্রস্ত না হয়।” তার এই প্রতিশ্রুতি ছিল, কোনো ধরনের যুদ্ধ বা অস্থিরতা যাতে একটানা দীর্ঘস্থায়ী না হয়।

ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, "যদি রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আর বিদেশে কোনো যুদ্ধ করবে না। আমরা আর কোনো মার্কিন সেনাকে যুদ্ধের জন্য বিদেশে পাঠাবো না।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার প্রশাসন বিদেশি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

 বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট: গাজা এবং ইউক্রেন


বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে জড়িয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং গাজা সংঘাত তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাইডেন প্রশাসন এই দুই সংঘাতের সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে, তবে তা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়নি। ট্রাম্পের ধারণা, তিনি যদি নির্বাচিত হন, তবে এই সংকটগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব: গাজা যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংকট


২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প যদি জয়ী হন, তবে তার প্রশাসন যে পরিবর্তন আনবে তা বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে, ট্রাম্প যদি গাজা এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে অগ্রসর হন, তবে তা বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও শান্তির সূচনা হতে পারে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলে, এটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতি: মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ করা


ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় জানিয়েছেন যে, তার প্রশাসন বিদেশি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধ করবে এবং মার্কিন সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, বাইডেন প্রশাসনের বিদেশি নীতি ও শান্তির প্রতি যে অব্যক্ত সমর্থন রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও কূটনৈতিক ও সমঝোতা ভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

 ট্রাম্পের ভবিষ্যত পদক্ষেপ এবং হামাসের প্রত্যাশা


হামাসের এই আহ্বান এবং ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে। ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে কিভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলো সমাধান করা যাবে। আগামী কিছু মাসে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে, যখন তিনি যদি নির্বাচনে জয়ী হন এবং তার পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করেন।








লিভার ভালো রাখার উপায়

 লিভার সিরোসিস থেকে বাঁচার ১০ উপায়: সুরক্ষিত রাখুন লিভারের স্বাস্থ্য

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৪

স্বাস্থ্য


লিভার সিরোসিস এমন একটি রোগ যা লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেখা দেয়। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের কারণে ঘটে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করে। সঠিক জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এই বিপজ্জনক রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। এখানে লিভার সিরোসিস থেকে বাঁচার দশটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় দেওয়া হলো, যা লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করবে।

১. অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন

অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতির অন্যতম কারণ। লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। অ্যালকোহল লিভারের কোষে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে, যা সিরোসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
পুষ্টিকর খাবার লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শাকসবজি, তাজা ফল, বাদাম এবং শস্য জাতীয় খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন। লাল মাংস এবং বেশি চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো লিভারের চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।

৩. সঠিক ওজন বজায় রাখুন
লিভারের ফ্যাটি জমা হওয়া সিরোসিসের অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ওজন কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। প্রতিদিনের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা লিভারের উপর চাপ কমায়।

৪. হেপাটাইটিস সংক্রমণ এড়িয়ে চলুন
হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণ লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। হেপাটাইটিস বি টিকা গ্রহণ করুন এবং রক্ত সংক্রান্ত কাজে সতর্কতা অবলম্বন করুন। সুরক্ষিত যৌন অভ্যাস বজায় রাখার মাধ্যমে সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

৫. ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
নিয়মবহির্ভূত ওষুধ গ্রহণ লিভারের উপর চাপ বাড়ায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করবেন না এবং হার্বাল প্রোডাক্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৬. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন
লিভারকে সুস্থ রাখতে পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরের টক্সিন দূর হয়, যা লিভারকে পরিষ্কার রাখে।

৭. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন
ব্রকলি, পালং শাক, বীট এবং সবুজ চা লিভারের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার লিভারের কোষগুলোর ক্ষতি রোধ করে এবং লিভারকে সুস্থ রাখে।

৮. প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
প্রক্রিয়াজাত খাবারে অধিক লবণ এবং কেমিক্যাল থাকে, যা লিভারের জন্য ক্ষতিকর। লাল মাংস ও অতিরিক্ত চিনি, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

৯. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
লিভারের সমস্যাগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি থাকলে প্রাথমিক অবস্থায় এটি শনাক্ত করা সহজ হয় এবং চিকিৎসা কার্যকর হয়।

১০. ধূমপান এবং মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার লিভারকে দুর্বল করে দেয়। নিকোটিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান লিভার কোষের ক্ষতি করে। নিজের সুস্থতার জন্য এসব অভ্যাস বাদ দিন।

ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ছে

 ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের সম্ভাব্য হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৪


মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা নতুন মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানের হামলার আশঙ্কা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যকার এই সম্ভাব্য সংঘাত শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। 

 

ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনার গুরুত্ব

ইসরাইলের অর্থনীতি এবং জীবিকা বেশিরভাগ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ উৎপাদন, গাড়ি চলাচল, শিল্পকারখানা, এমনকি দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজেও জ্বালানি অপরিহার্য। তাই ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইরান, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসরাইলের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছে।


 ইরান-ইসরাইল সংঘাত: কারণ এবং প্রেক্ষাপট

বিশেষ প্রতিবেদন 


ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ইরান নিজেকে শিয়া মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে দাবি করে এবং সে কারণে সুন্নি আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ককে সন্দেহের চোখে দেখে। অন্যদিকে, ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে নিজ রাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। সাম্প্রতিক কিছু হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে ইসরাইল, যা দুই দেশের মধ্যে আক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

 


ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি

ইসরাইল তার জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার জন্য উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং হেটজ-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম। এই সিস্টেমগুলো ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হাইপারসনিক মিসাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহারের কারণে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

 

ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং হামলার কৌশল

ইরান নিজেদের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল এবং তার বেশ কয়েকটি সামরিক বাহিনী রয়েছে, যার মধ্যে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড অন্যতম। ইরান যেকোনো সময় তার সামরিক বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালাতে পারে। এই ধরনের আক্রমণ চালানোর জন্য ইরানের কাছে রয়েছে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ব্যবস্থা, যা ইসরাইলের জন্য বিরাট হুমকি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রভাব

ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানের হামলার আশঙ্কা শুধু এই দুই দেশেই নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক সমাজেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। এই আক্রমণের সম্ভাবনা তেল সরবরাহ এবং গ্লোবাল মার্কেটে জ্বালানির দামে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যার কারণে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।

ইরান-ইসরাইল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

এই সংঘাত সমাধানের জন্য একটি কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন যা এই দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধান আনতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, ইরান ও ইসরাইল উভয়ই নিজেদের প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন করতে পারে।


ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা শুধু দুই দেশেরই নয়, বরং পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান যদি সত্যিই ইসরাইলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তবে এই সংঘাতের বিস্তার আরও ব্যাপক হতে পারে। ফলে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উভয় দেশকে সংযত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং কূটনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান করা। 

আরো পড়ুন.................. 

পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে: ২০০ রানে অলআউট পাকিস্তান

 পাকিস্তানকে অলআউট করে ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁলো অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৪
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়া সফরে এলেও ওয়ানডে সিরিজে সেই জৌলুশ ধরে রাখতে পারেনি। প্রথম ওয়ানডেতে, অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বে কোনোমতে ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে পেরেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দাপটে ২০৩ রানে অলআউট হয় সফরকারী দল। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ২০৪ রান।




মেলবোর্নে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের জন্য। ইনিংসের ৫ বলের মাথায় মাত্র ১ রান করে ওপেনার সাইম আইয়ুবকে বোল্ড করেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। দলীয় ২৪ রানে, ২৬ বলে ১২ রান করা আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিকও উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাঁহাতি পেসারের বলে।



দলের হাল ধরতে মাঠে নামেন অধিনায়ক বাবর আজম। যদিও অনেকটা চেষ্টা করেও ৪৪ বলে ৩৭ রান করার পর অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।



কঠিন পিচে লড়াই চালিয়ে যান রিজওয়ান। ৭১ বলে ৪৪ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ইনিংসের সর্বোচ্চ রানও করেন রিজওয়ান।



পাকিস্তানের ২০০ রানের গণ্ডি পার করার পেছনে অবদান ছিল শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহর। শাহিন ১৯ বলে ২৪ রান করেন, আর নাসিম ৩৯ বলে ৪০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১ চার ও ৪ ছক্কা। তবে প্যাট কামিন্সের বলে নাসিম শাহ ক্যাচ আউট হলে ৪৬.৪ ওভারে ২০৩ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।



মিচেল স্টার্ক ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। প্যাট কামিন্স ও অ্যাডাম জাম্পা ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

আরো পড়ুন............. 

সেন্ট মার্টিনে কি আসলেই নৌঘাঁটি হবে?

সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি: সম্ভাবনা ও সংকট

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৪

সেন্ট মার্টিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি হবে কি না—এ প্রশ্নটি সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকার সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বছরের দশ মাস ধরে পর্যটন বন্ধ থাকলে এটি কার্যকরী পরিকল্পনা হবে না। বরং দ্বীপের বৈশিষ্ট্য ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার মাধ্যমে সারা বছর পর্যটনকে কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। 


বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, সেন্ট মার্টিনে অবস্থানরত পরিবেশগত সংকটগুলো স্পষ্ট। সেখানে মাছ ধরা বন্ধ, পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং হাসপাতালসহ অন্যান্য পরিষেবাগুলি সংকটে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে, এবং প্রশ্ন উঠছে—এটা কি সরকারের একটি বড় পরিকল্পনার অংশ?

 

সরকারের যুক্তি


সরকার ও পরিবেশবাদীদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্ট মার্টিনে উচ্চ তাপমাত্রা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। সাদা মাছির প্রকোপ নতুন একটি বিপদ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয় এবং গত বছরের ৪ জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতামত


পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকাংশই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। চার থেকে পাঁচ মাস পর্যটন চালু থাকলেও বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের আয় অপ্রতুল। যদি পর্যটন নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়, তাহলে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। নভেম্বর মাসে রাতে কাটানোর শর্তে কেউ সেখানে যেতে আগ্রহী হবেন না, যা পর্যটনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

যদি সরকারের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ সুরক্ষা হয়, তবে বছরের দশ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা কার্যকরী নয়। পরিবর্তে, পলিথিন ও প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে, পরিচ্ছন্নতার জন্য জরিমানা আরোপ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। 

 

উদ্বেগের কারণ


সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। গত ১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে "স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি" নামে একটি সংগঠন প্রতিবাদ সভায় অভিযোগ করেছে যে, সরকারের পরিবেশ রক্ষার নামে ভারত ও মগ-আরাকানদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হন, তাহলে দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে পড়বে।

 

 সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি হবে কি?


সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। কিন্তু এখানের পানির গভীরতা কি যথেষ্ট? সরকারের পরিকল্পনা যদি বিদেশি রাষ্ট্রকে লিজ দেওয়ার হয়, তবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিবাদী মনোভাব এটিকে কঠিন করে তুলবে। 


সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা নিরাপদ রাখতে হলে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। স্থানীয়দের সাথে আলোচনা ছাড়া কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, অন্যথায় সেন্ট মার্টিনের প্রকৃতি ও মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। 

কমলা হ্যারিস বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্প: বিশ্বনেতাদের সমর্থন ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতাদের সমর্থন বিশ্লেষণ। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প: কাকে সমর্থন করছেন নেতারা?

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪

কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে নির্বাচন 

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন? যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। কমলা হ্যারিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প—যে কোনও একজন ক্ষমতায় আসুন, তাঁদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্ব নেতাদের সমর্থন এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়গুলি বুঝতে আসুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।



১. রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পছন্দ

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন কমলাকে মজা করে পছন্দের কথা বলছেন, তখন বাস্তবে তাঁর পছন্দের প্রার্থী ট্রাম্প। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, পুতিনের কাছে ট্রাম্পের প্রতি কিছু কারণ রয়েছে। তিনি মনে করেন:

রাশিয়ার প্রতি নমনীয়তা:

পুতিন বিশ্বাস করেন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নমনীয়। তিনি ট্রাম্পের শাসনামলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কথা বলেন।

ইউক্রেন সমস্যা:

ইউক্রেনের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক চুক্তিতে সহায়তা করতে সক্ষম। পুতিনের কাছে ট্রাম্পের শাসনামল ছিল রাশিয়ার জন্য সহায়ক।

বিশেষ সম্পর্ক:

ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল যা পুতিনের কাছে ইতিবাচক হিসেবে ধরা হয়। 

অ্যাশ আরও বলেন, "পুতিন ট্রাম্পের মধ্যে তাঁর কর্তৃত্ববাদী চিত্র দেখতে পান এবং মনে করেন, ট্রাম্পকে তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারেন।"



২. চীনের অবস্থান

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি কমলা বা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন করেননি। তবে, উভয় দলেরই চীনের প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। যদি ট্রাম্প পুনরায় জয়ী হন, তাহলে এই যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের পদক্ষেপ:

বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রশাসনও চীনের প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী চীনের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং ন্যায্য বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।



৩. ইউরোপের সমর্থন

অনেক ইউরোপীয় নেতা এইবার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন জানাচ্ছেন। ইউরোপের নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাস্থা রয়েছে, বিশেষ করে ন্যাটোর বিষয়বস্তুতে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, "আমি তাঁকে ভালোভাবে চিনি। তিনি দারুণ প্রেসিডেন্ট হবেন।" এটি নির্দেশ করে যে, ইউরোপের নেতাদের জন্য হ্যারিসের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে, বিশেষ করে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনঃস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা।

নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা:

ইউরোপের নেতারা আশা করেন যে, হ্যারিসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ভারও সহজ হবে।



৪. ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ, তবে চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো চৈতজ্ঞ বাজপেয়ী বলেন, "আমি মনে করি না, মোদির কোনো পছন্দের প্রার্থী আছে।" ভারত উভয় দলের সঙ্গেই সম্পর্ক মজবুত করতে চায়, কারণ উভয় দল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক:

মোদির সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রধান সহযোগী দেশ, এবং উভয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।



 ৫. দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল কাউকেই সরাসরি সমর্থন করেননি। তবে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালে কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছিল, যা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সামরিক সহযোগিতা:

দক্ষিণ কোরিয়া আশা করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে।



৬. জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি

জাপানে, যদি ট্রাম্প জয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা হ্রাস পাবে। ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধি করবেন এবং জাপানকে সামরিক বাজেট বাড়াতে চাপ প্রয়োগ করবেন। কমলা প্রেসিডেন্ট হলে তাদের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, যা জাপানের জন্য সুবিধাজনক হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান:

অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্পের বিজয় নানা প্রশ্নের উদ্রেক করবে। অস্ট্রেলিয়া ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, তবে ট্রাম্পের সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের সমর্থন না দেওয়া স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ার নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্বিগ্ন।


যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। কমলা হ্যারিস অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্প—যিনিই আসুক, তাঁদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক পরিবর্তিত হবে। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, বিশ্বনেতাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং আমাদের সাইটে আরও সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!