জাতিসংঘে স্থায়ী সদস্য পদে ভারতকে সমর্থন দিল যেসব দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক-
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪,
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের পূর্ণ সদস্যপদ নিশ্চিত করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি ভারতের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোও ভারতের দাবির পক্ষে কথা বলেছেন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা দরকার।
বর্তমানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছরের জন্য নিজ নিজ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়। স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে, যাদের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিয়ে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "যতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক না হবে এবং প্রতিটি পক্ষ শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে, ততদিন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের পরিসর বাড়াতে হবে।"
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ভারতের পক্ষে মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটনে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার চান এবং ভারতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
নয়াদিল্লির মতে, ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিষদ এখনকার যুগের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয় এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন এতে নেই।
এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানও জাতিসংঘের সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঁচটি স্থায়ী সদস্যকেই সমস্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা পরিবর্তন হওয়া উচিত। তিনি অতীতেও বলেছিলেন, "পৃথিবী এই পাঁচ দেশের চেয়ে বড়।"
অপরদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সেকেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই পরিষদ তার ক্ষমতা হারাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ ও কার্যধারায় সংস্কার না আনলে এটি শীঘ্রই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে

