মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ববি ফ্রিকশনের মতে, "কাওয়ালি সংগীত হলো দক্ষিণ এশিয়ার সুফি ধর্মীয় ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। এর শক্তিশালী কাব্য, সম্মোহিত ছন্দ ও সুর একাধারে ঈশ্বর, প্রেম এবং সংগীতকে এক হিসাবে উদযাপন করেছে।"
বিশ্বখ্যাত কাওয়াল মুন্সী রাজিউদ্দীনের ছেলে ফরিদ আয়াজের মতে, মাহফিল-ই-সামাকে যদি জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সেখানে শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, বুদ্ধিজীবী ও প্রকৌশলী সব শ্রেণি-পেশা-বয়স ও লিঙ্গের মানুষ রয়েছে।
যখন কেউ কাওয়ালি শোনেন, তখন তিনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, যুবক, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ কিছুই থাকেন না, তখন তিনি কেবলই একজন সুফি।
আবু মুহাম্মাদ বলেন: "আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন সামাত বিন ইব্রাহিম। তিনি হযরত আমীর খসরুর প্রথম শিষ্য ছিলেন। সামাত ছিলেন বোবা, কিন্তু হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার কৃপায় তিনি তার বাকশক্তি ফিরে পান এবং এরপর তাকে আমীর খসরু-এর কাছে পাঠানো হয়। এরপর তিনি আমীর খসরুর প্রতিষ্ঠিত কাওয়াল চৌকির প্রধান হন। তাই তাকে কাওয়াল বাকি বলা হয়।"
মুন্সী রাজিউদ্দীন এবং তার পরে তার দুই ছেলে ধ্রুপদ ঘরানার গান শুরু করেন যা তাদেরকে অন্যান্য কাওয়ালদের থেকে আলাদা করেছিল।
ছেলেরা তাদের পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে কী নিয়েছে- এমন প্রশ্নে ফরিদ আয়াজ বলেন, “আমার বাবা শুধু একজন উচ্চপদস্থ কাওয়াল ছিলেন না, তিনি একজন হাকিম, একজন সুফি, একজন ফকির, একজন বুদ্ধিজীবী, একজন দার্শনিক এবং ফিকাহ ও হাদিসের পণ্ডিত ছিলেন।”
“আমি তার কাছ থেকে ৪৭ বছর ধরে প্রতিদিন তালিম নিয়েছি এবং তার মতো, আমি আমার জ্ঞান কাওয়ালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, প্রজ্ঞা, হাদিস এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করেছি।”
“তবে এটাও ঠিক যে আমার মনে হয় আমি তার কাছ থেকে এমন অনেক কিছু শিখতে পারিনি, যা আমি শিখতে পারতাম,” যোগ করেন এই কাওয়ালি শিল্পী।
পপ মিউজিক বা অন্যান্য গানের মতো কাওয়ালি কেন এখন আর আগের মতো নেই- "এমন প্রশ্নের জবাবে দুই ভাই বলেন, পপ মিউজিকের মতো গান প্রচুর পৃষ্ঠপোষকতা পায়। দুর্ভাগ্যবশত কাওয়ালি এমন একটা ক্ষেত্র হয়ে গেছে যেদিকে মানুষের যতোটা মনোযোগ দেয়া উচিত ছিল ততোটা দেয়নি। এর মানে এই নয় যে কাওয়ালরা কমে গেছে, বাস্তবতা হলো যে বেশিরভাগই সুযোগ পাচ্ছেন না।"
মূল বিষয় কাওয়ালী হারাম না হালাল?
যদিও ইসলামের দৃষ্টি কোন থেকে কোন থেকে বাদ্যযন্ত্র হারাম। যদি এই সামা-গানে অশ্লীল শিরকি কোন কথাবার্তা থাকে এবং ইসলাম বিরোধী কোন কথা থাকতে পারবেনা। তাহলে কাওয়ালী সামা-গান করা যাবে ও শোনাও যাবে। যদি মূল বিষয় হয় ইসলাম নিয়ে গান আল্লাহতালাকে নিয়ে প্রশংসা নবীর শানে প্রশংসা তাহলে এই সামা-গান গাইতে পরবে শোনাও যাবে । আরেকটি মূল বিষয় হচ্ছে বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবেনা। তার কারণ হচ্ছে বাদ্যযন্ত্র ইসলাম হারাম করে দিয়েছে। বাদ্যযন্ত্র হচ্ছে দরজালের বড় একটি হাতিয়ার।
কোরআনে বর্ণিত আছে -
(২১ নাম্বার পাড়া, ১০ নাম্বার পৃষ্ঠা, ৮ নাম্বার লাইন,"সূরা লোকমান ",৬ নাম্বার আয়াত -আল্লাহতালা নিজেই বলেছেন বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ হারাম) |
তবে অনেকে দফসংক্রান্ত হাদিসগুলো দ্বারা বাদ্যযন্ত্রের বৈধতা দিতে এই যুক্তি দেন যে দফ ছিল তৎকালীন আরবের বাদ্যযন্ত্র। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন তা আরো উন্নত হয়েছে। দলিল হিসেবে তাঁরা বলেন, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিয়ের ঘোষণা দেবে এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করবে। আর এ উপলক্ষে দফ বাজাবে।
(জামে তিরমিজি, হাদিস : ১০৮৯)
অথচ নবীজি (সা.)-এর যুগে ব্যবহৃত দফ সম্পর্কে যাঁরা অনুসন্ধান করেছেন, তাঁদের মতানুযায়ী দফ হলো একপাশ খোলা ঢোলবিশেষ। বাজালে ঢ্যাব ঢ্যাব আওয়াজ হয়। প্লাস্টিকের গামলার মতো অনেকটা। মূলত দফ সংগীতে ব্যবহৃত কোনো বাদ্যযন্ত্রের পর্যায়ে পড়ে না।
তন্ময় মুন্সি -"বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস ডেকে আনে"