কমলা হ্যারিস বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্প: বিশ্বনেতাদের সমর্থন ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতাদের সমর্থন বিশ্লেষণ। কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প: কাকে সমর্থন করছেন নেতারা?

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪

কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে নির্বাচন 

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন? যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। কমলা হ্যারিস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প—যে কোনও একজন ক্ষমতায় আসুন, তাঁদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্ব নেতাদের সমর্থন এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়গুলি বুঝতে আসুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।



১. রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পছন্দ

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন কমলাকে মজা করে পছন্দের কথা বলছেন, তখন বাস্তবে তাঁর পছন্দের প্রার্থী ট্রাম্প। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, পুতিনের কাছে ট্রাম্পের প্রতি কিছু কারণ রয়েছে। তিনি মনে করেন:

রাশিয়ার প্রতি নমনীয়তা:

পুতিন বিশ্বাস করেন ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নমনীয়। তিনি ট্রাম্পের শাসনামলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কথা বলেন।

ইউক্রেন সমস্যা:

ইউক্রেনের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক চুক্তিতে সহায়তা করতে সক্ষম। পুতিনের কাছে ট্রাম্পের শাসনামল ছিল রাশিয়ার জন্য সহায়ক।

বিশেষ সম্পর্ক:

ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল যা পুতিনের কাছে ইতিবাচক হিসেবে ধরা হয়। 

অ্যাশ আরও বলেন, "পুতিন ট্রাম্পের মধ্যে তাঁর কর্তৃত্ববাদী চিত্র দেখতে পান এবং মনে করেন, ট্রাম্পকে তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারেন।"



২. চীনের অবস্থান

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরাসরি কমলা বা ট্রাম্প কাউকেই সমর্থন করেননি। তবে, উভয় দলেরই চীনের প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। যদি ট্রাম্প পুনরায় জয়ী হন, তাহলে এই যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের পদক্ষেপ:

বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রশাসনও চীনের প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী চীনের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং ন্যায্য বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।



৩. ইউরোপের সমর্থন

অনেক ইউরোপীয় নেতা এইবার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন জানাচ্ছেন। ইউরোপের নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনাস্থা রয়েছে, বিশেষ করে ন্যাটোর বিষয়বস্তুতে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, "আমি তাঁকে ভালোভাবে চিনি। তিনি দারুণ প্রেসিডেন্ট হবেন।" এটি নির্দেশ করে যে, ইউরোপের নেতাদের জন্য হ্যারিসের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে, বিশেষ করে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনঃস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা।

নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা:

ইউরোপের নেতারা আশা করেন যে, হ্যারিসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ভারও সহজ হবে।



৪. ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ, তবে চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো চৈতজ্ঞ বাজপেয়ী বলেন, "আমি মনে করি না, মোদির কোনো পছন্দের প্রার্থী আছে।" ভারত উভয় দলের সঙ্গেই সম্পর্ক মজবুত করতে চায়, কারণ উভয় দল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক:

মোদির সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রধান সহযোগী দেশ, এবং উভয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।



 ৫. দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল কাউকেই সরাসরি সমর্থন করেননি। তবে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালে কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছিল, যা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সামরিক সহযোগিতা:

দক্ষিণ কোরিয়া আশা করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে।



৬. জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি

জাপানে, যদি ট্রাম্প জয়ী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা হ্রাস পাবে। ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধি করবেন এবং জাপানকে সামরিক বাজেট বাড়াতে চাপ প্রয়োগ করবেন। কমলা প্রেসিডেন্ট হলে তাদের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, যা জাপানের জন্য সুবিধাজনক হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান:

অস্ট্রেলিয়ার জন্য ট্রাম্পের বিজয় নানা প্রশ্নের উদ্রেক করবে। অস্ট্রেলিয়া ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, তবে ট্রাম্পের সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাদের সমর্থন না দেওয়া স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ার নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্বিগ্ন।


যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। কমলা হ্যারিস অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্প—যিনিই আসুক, তাঁদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক পরিবর্তিত হবে। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, বিশ্বনেতাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং আমাদের সাইটে আরও সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!