সেন্ট মার্টিনে কি আসলেই নৌঘাঁটি হবে?

সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি: সম্ভাবনা ও সংকট

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৪

সেন্ট মার্টিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি হবে কি না—এ প্রশ্নটি সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকার সেন্ট মার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বছরের দশ মাস ধরে পর্যটন বন্ধ থাকলে এটি কার্যকরী পরিকল্পনা হবে না। বরং দ্বীপের বৈশিষ্ট্য ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষার মাধ্যমে সারা বছর পর্যটনকে কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। 


বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, সেন্ট মার্টিনে অবস্থানরত পরিবেশগত সংকটগুলো স্পষ্ট। সেখানে মাছ ধরা বন্ধ, পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং হাসপাতালসহ অন্যান্য পরিষেবাগুলি সংকটে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে, এবং প্রশ্ন উঠছে—এটা কি সরকারের একটি বড় পরিকল্পনার অংশ?

 

সরকারের যুক্তি


সরকার ও পরিবেশবাদীদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্ট মার্টিনে উচ্চ তাপমাত্রা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন উজাড়, দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। সাদা মাছির প্রকোপ নতুন একটি বিপদ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয় এবং গত বছরের ৪ জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতামত


পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকাংশই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। চার থেকে পাঁচ মাস পর্যটন চালু থাকলেও বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের আয় অপ্রতুল। যদি পর্যটন নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়, তাহলে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। নভেম্বর মাসে রাতে কাটানোর শর্তে কেউ সেখানে যেতে আগ্রহী হবেন না, যা পর্যটনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

যদি সরকারের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ সুরক্ষা হয়, তবে বছরের দশ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা কার্যকরী নয়। পরিবর্তে, পলিথিন ও প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে, পরিচ্ছন্নতার জন্য জরিমানা আরোপ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। 

 

উদ্বেগের কারণ


সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। গত ১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে "স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি" নামে একটি সংগঠন প্রতিবাদ সভায় অভিযোগ করেছে যে, সরকারের পরিবেশ রক্ষার নামে ভারত ও মগ-আরাকানদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হন, তাহলে দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে পড়বে।

 

 সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি হবে কি?


সেন্ট মার্টিনে নৌঘাঁটি গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। কিন্তু এখানের পানির গভীরতা কি যথেষ্ট? সরকারের পরিকল্পনা যদি বিদেশি রাষ্ট্রকে লিজ দেওয়ার হয়, তবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিবাদী মনোভাব এটিকে কঠিন করে তুলবে। 


সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা নিরাপদ রাখতে হলে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। স্থানীয়দের সাথে আলোচনা ছাড়া কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, অন্যথায় সেন্ট মার্টিনের প্রকৃতি ও মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।